এসি কি আসলেই বিস্ফোরিত হয়? জেনে নিন নিরাপদে এসি চালানোর নিয়ম

এসি বিস্ফোরণ

এসি কেন বিস্ফোরিত হয়?

এমন একটি প্রশ্ন প্রায়ই করেন ব্যবহারকারীরা।

সত্যি বলতে এসি বিস্ফিরিত হবার মত যন্ত্র না।

বিভিন্ন স্থানে এসি বিস্ফোরণের যেসব খবর আমরা পাই তার অনেকটাই মিথ্যা।

বেশিরভাগ এসি দুর্ঘটনা হয় শর্ট সার্কিট থেকে। এসির কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনা খুবই বিরল। অনেক সময় না বুঝে কম্প্রেসার বিস্ফোরণের কথা বলা হয়ে থাকে। অ

অনেক সময় দেখা যায় টেকনিক্যাল ব্রেন না থাকা সাধারণ মানুষ আর সংবাদ পত্রের অদক্ষতার কারণে ভুল নিউজ প্রচার হচ্ছে।

এর একটি ভাল উদাহরণ হতে পারে নারায়ণগঞ্জের মসজিতে বিস্ফোরণের ঘটনা। নামাজ পড়ার সময় হুট করেই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর টেলিভিশন এবং সংবাদ পত্র গুলি স্বচিত্র খবর দিতে থাকেন যে মসজিদে একই সংগে ৬ টি এসি বিস্ফোরণ হয়েছে !

কোন রকম যাচাই বাছাই ছাড়াই খবর টি প্রকাশের পর এসি ব্যবহারকারীদের মধ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঐ সময়ে আমার কাছে অনেকেই ফোন করে এসি বিস্ফোরণ কেমনে থামানো যায় তা জানতে চান গ্রাহকরা। কয়েকজন এসি ব্যবহার করাই বাদ দিবেন আমাকে এমনটা বলেন। আমি তাদের অভয় দেই। এসি বিস্ফোরণের মত কিছু না তবে কিছু ফ্যাক্ট আছে যেখান থেকে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

হ্যা বলছিলাম নারায়ণগঞ্জের কথা পরে অবশ্য জানা মসজিদের ফ্লোরের নিচে দিয়ে গিয়েছিল তিতাশের অবৈধ গ্যাস লাইন।

গ্যাসের পাইপ লিকেজ হয়ে মসজিদের ফ্লোর দিয়ে গ্যাস ফ্লো হয়। এয়ার টাইট কক্ষটি গ্যাস চেম্বার হয়ে যায়। ইলেকট্রিক মেইনবোর্ডের পাওয়ার লাইনে সুইচ অন করতেই ঘটে বিস্ফোরণ।

আপনারা জানেন ইলেকট্রিক সুইচ গুলি অন করার সময় সামান্য স্পার্ক হয়। যারফলে গ্যাস চেম্বারে আগুন ধরে যেতে পারে।

সাধারণত এসি আছে এমন কক্ষ গুলির দরজা জানালা বন্ধই থাকে। এবং এখানে গ্যাস নানান মাধ্যম থেকে জমে রুমটি বোমার মত উড়ে যেতে পারে।

আর এসির কম্পেসারের মধ্য যে তেলটি থাকে সেটি পুড়ে যাবার সম্ভবনা কম।

এসিতে যে গ্যাস ব্যবহার হয় সেটাই একটা সোর্স হিসেবে কাজ করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নও আমার কাছে এসেছে।

এসিতে ক্লোরো ফ্লোরো বা ফ্রেয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

এটার যে বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করা হয় তা হলো, ননফ্লেমেবল বা সহসা এটায় আগুন ধরে না। এটা লিক করলে খুব একটা গন্ধ পাওয়া যায় না। এটা বাতাসের চেয়ে চারগুণের মতো ভারী।

প্রথমে লিক হলে ভারী হওয়ায় এটা মাটিতে চলে আসে। আবার তাপ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা চলেও যায়, বাতাসে জমে থাকে না। সেগুলো ইমফ্লেমেবল না হলে আগুন লাগে না।

তবে হ্যাঁ, এ ধরনের গ্যাসেও আগুন লেগে যেতে পারে সেটা হল যদি অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আগুন লাগে।

কোনও কারণে আগুন লেগে যদি তাপমাত্রা ৯০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে যায়, তারপরে এসিতে যে গ্যাস থাকে সেই গ্যাস থেকেও আগুন লাগতে পারে। কিন্তু এই ৯০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আগুন তুলবে কে। সেজন্য অন্য গ্যাসের উপস্থিতি সেখানে থাকতে হবে।’

নিরপদ থাকার জন্য আমাদের সচেতন থাকা দরকার। এসি একা নয় ঘরের সমস্ত ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার। ঘরের ইলেকট্রিক লাইন গ্যাসের লাইন গুলি পরীক্ষা করা দরকার।

এসি চালানোর আগে দরজা জানালা খুলে রেখে বা ফ্যান চালিয়ে আলো বাতাস চলাচলের মতো ব্যবস্থা করে তারপরে জানালাগুলো আটকে এগুলো চালু করে দেওয়া উচিত। এটা নিয়মিতভাবে করা উচিত।

গ্যাসের উপস্থিতি মাপার জন্য সেন্সর আছে এখন। ঘরে গ্যাসের উপস্থিতি মাপার সেন্সর ব্যবহার করা উচিত।

বেশিরভাগ এসি দুর্ঘটনা হয় শর্ট সার্কিট থেকে। এসির কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনা খুবই বিরল।

অনেক সময় না বুঝে কম্প্রেসার বিস্ফোরণের কথা বলা হয়ে থাকে। অনেক সময় এসির আর্থিং করা থাকে না। এটা থাকাটা জরুরী। এসির আর্থিং করা থাকলে বজ্রপাতের সময় কোনও সমস্যা হয় না। তবে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় এসি না চালানোই ভালো।

এসি বিস্ফোরণের বিষয়ে কয়েকটি কেস স্টাডি পর্যালোচনা করে দেখেছি, এসির ভেতরে বিস্ফোরণ হওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। শর্ট সার্কিট থেকে বা অন্যকোনও বিস্ফোরণে (অন্য কোনও গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কারণেও হতে পারে) এসিতে আগুন ধরে যেতে পারে বা বিস্ফোরণ হতে পারে।

এসির ভেতরে কোনও কারণে যদি ফায়ারিং হয় তাহলে কম্প্রেসারের তেলটা কালো হয়ে যেতে পারে। প্রথম দেখা মনে হতে পারে তেলটা পুড়ে গেছে।

এসি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে আমাদের যা করা উচিত।

এসি কেনার সময় ব্রাণ্ডের আসল পণ্য কেনা উচিত। দেশে এখন বিপুল পরিমান ননব্রাণ্ড এসি আসছে এই গুলির বেশিরভাগ আবার নানান ব্রাণ্পের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রিও হয়ে যাচ্ছে। তাই নকল এসি কিনবেন না।

এসি ইনষ্টলের সময় সঠিক মানের তার ব্যবহার করতে হবে।

সঠিক মান অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করতে হবে।

কন্ডেন্সারে প্রচুর ধুলোবালি জমলে ভেতরে প্রচুর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে এসির ধুলোবালি পরিষ্কার করতে হবে।

কপার পাইপে যদি কোনও ব্লক থাকে তাহলে প্রেশার তৈরি হতে পারে, তাই নিয়মিত সার্ভিসিং করতে হবে।

সুইচ বোর্ড ভালো হতে হবে। তা নাহলে হাই কারেন্ট ফ্লো হলে সেখান থেকে ‘ফায়ার’ হতে পারে। ক্যাবল সঠিক না হলে স্পার্ক হতে পারে।

আসুন আমরা সচেতন হই। শুভ কামনা সবার জন্য।